দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়। ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস

দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায় সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। বর্তমান সময়ে রোগা শরীর নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন কারণ এটি কেবল দেখতে খারাপ লাগে না বরং মনের আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়।
দ্রুত-মোটা-হওয়ার-সহজ-উপায়
আমরা অনেকেই মনে করি কেবল বেশি খাবার খেলেই মোটা হওয়া যায় কিন্তু আসলে স্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন বাড়ানো একটি বিজ্ঞান সম্মত প্রক্রিয়া। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে জানতে পারবেন প্রাকৃতিক ভাবে এবং কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন বাড়ানোর সেরা ১৫টি টিপস সম্পর্কে যা আপনার জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে সাহায্য করবে।

পেজ সূচিপত্রঃ দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়। ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস

দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়

দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায় ও ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস এই বিষয়টি বর্তমান সময়ে যারা খুব রোগা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী কারণ সুস্থ থাকা এবং সুঠাম দেহের অধিকারী হওয়া সবারই স্বপ্ন। অনেকে মোটা হওয়ার উপায় খুঁজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন কারণ তারা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন না। আপনি যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করার সাথে সাথে শরীরের পেশী গঠনের দিকে নজর না দেন তবে আপনার শরীর ভরাট দেখাবে না। প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ানো কেবল একটি খাদ্যাভ্যাস নয় বরং এটি একটি নিয়মিত চর্চা যা আপনাকে ধৈর্য ধরে চালিয়ে যেতে হবে।
দ্রুত-মোটা-হওয়ার-সহজ-উপায়
আপনার রোগা শরীরকে ভরাট করতে এবং শরীরের হাড়ের ওপর মজবুত পেশী তৈরি করতে নিচের ১৫টি টিপস অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আমরা যখন সাধারণ ডায়েটের কথা বলি তখন অনেক সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টির কথা ভুলে যাই কিন্তু এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার শরীরে শক্তির অভাব হবে না। প্রতিটি টিপস বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং আপনার মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। আপনি যদি ধৈর্য ধরে এই নিয়মগুলো আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করতে পারেন তবে খুব দ্রুতই আয়নার সামনে নিজেকে দেখে আপনি আনন্দিত হবেন। নিচে আপনার জন্য মোটা হওয়ার সহজ উপায়। ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ

১) প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ মাংস ডিম এবং ডাল রাখুন কারণ প্রোটিন হলো পেশী গঠনের প্রধান কাঁচামাল।

২) উচ্চ ক্যালোরি গ্রহণঃ সারাদিনে ব্যয় করা শক্তির চেয়ে অন্তত ৫০০ ক্যালোরি বেশি খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।

৩) ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফলঃ কিসমিস খেজুর এবং কাজু বাদাম সাথে রাখুন কারণ এগুলো পরিমাণে কম হলেও প্রচুর ক্যালোরি সরবরাহ করে।

৪) বারবার খাবার খাওয়াঃ দিনে ৩ বার বড় খাবার খাওয়ার বদলে ৫ থেকে ৬ বার অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৫) দুধ ও মধুঃ রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।

৬) নিয়মিত ব্যায়ামঃ ওজন তোলার ব্যায়াম বা পুশ-আপস করলে আপনার শরীরের পেশীগুলো সুগঠিত হবে এবং আপনাকে শক্তিশালী দেখাবে।

৭) পর্যাপ্ত ঘুমঃ প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন কারণ ঘুমের মধ্যেই আমাদের শরীরের কোষগুলো মেরামত ও বৃদ্ধি পায়।

৮) ঘি ও মাখনঃ রান্নায় ডাল বা ভাতের সাথে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে খাবারের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায় যা ওজন বাড়াতে সহায়ক।

৯) ফলের স্মুদিঃ সাধারণ জলের বদলে কলা এবং দুধ দিয়ে তৈরি ঘন শেক বা স্মুদি পান করলে শরীরে দ্রুত পুষ্টি পৌঁছায়।

১০) মানসিক চাপ কমানোঃ অতিরিক্ত টেনশন শরীরকে ভেতর থেকে শুকিয়ে দেয় তাই সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন এবং মেডিটেশন করুন।

১১) আলু ও মিষ্টি আলুঃ কার্বোহাইড্রেটের সেরা উৎস হিসেবে নিয়মিত আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন যা প্রাকৃতিকভাবে শরীর ভরাট করে।

১২) জল পানের সঠিক নিয়মঃ খাওয়ার ঠিক আগে জল খাবেন না কারণ এতে পেট ভরে যায় এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না।

১৩) পিনাট বাটারঃ পাউরুটি বা ফলের সাথে পিনাট বাটার খেলে এটি আপনার শরীরে ভালো চর্বি এবং প্রোটিনের জোগান দেয়।

১৪) কাঁচা ছোলাঃ প্রতিদিন সকালে মধু দিয়ে ভেজানো কাঁচা ছোলা খেলে শরীরের পেশী শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ওজন দ্রুত বাড়ে।

১৫) ঘরের তৈরি খাবারঃ বাইরের জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে সবসময় সতেজ এবং ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন।

এই ১৫টি অভ্যাস একদিনে ফল দেবে না এটা আগে মাথায় রাখা দরকার। তবে নিয়ম মেনে চললে শরীর ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে, যা আপনি নিজেই টের পাবেন। অনেকেই ওজন বাড়ানোর জন্য তাড়াহুড়ো করেন, কিন্তু সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ঘরোয়া খাবার, ঠিকঠাক ঘুম আর সামান্য ব্যায়াম এই তিনটা জিনিস একসাথে চললে ফল আসবেই। শরীরকে সময় দিন, নিজের ওপর ভরসা রাখুন। কয়েক সপ্তাহ পর আয়নার সামনে দাঁড়ালে পার্থক্যটা আপনার চোখেই ধরা পড়বে।

১ মাসে মোটা হওয়ার উপায়

১ মাসে মোটা হওয়ার উপায় যারা খুঁজছেন তাদের জন্য আমরা এমন একটি রুটিন সাজিয়েছি যা আপনার শরীরের মেটাবলিজমকে উন্নত করে দ্রুত পুষ্টি শোষণে সাহায্য করবে। এক মাসের এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আপনাকে আপনার জীবনযাত্রায় কিছু আমূল পরিবর্তন আনতে হবে এবং নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করা যাবে না। আপনি যদি মনে করেন কেবল খেয়েই এক মাসে পরিবর্তন আসবে তবে সেটি ভুল ধারণা বরং আপনাকে আপনার খাদ্যের প্রতিটি উপাদানের দিকে নজর দিতে হবে। এই ৩০ দিনের শৃঙ্খলা আপনার শরীরকে একটি শক্ত ভিত্তি দান করবে যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। নিচে আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য কিছু বিশেষ পয়েন্ট বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ

ক্যালোরি সারপ্লাস বজায় রাখাঃ প্রতিদিনের খাবারে বর্তমানের চেয়ে অন্তত ৮০০ ক্যালোরি বেশি যোগ করতে হবে যা আপনার শরীরের বাড়তি ওজনে রূপান্তরিত হবে। এর জন্য আপনি ভারী নাস্তা এবং ডিনারের মাঝখানে পুষ্টিকর স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করুন যা আপনার শরীরের শক্তির ঘাটতি পূরণ করবে।

লিকুইড ডায়েটের গুরুত্বঃ চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি লিকুইড ক্যালোরি যেমন মিল্কশেক বা প্রোটিন শেক নিয়মিত পান করুন যা পেটে ভারী বোধ না করিয়েও প্রচুর পুষ্টি দেয়। যারা খুব দ্রুত ফলাফল চান তারা প্রতিদিন অন্তত দুবার ফলের রস বা ঘন দুধের শরবত পান করতে পারেন যা ওজনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।

প্রোটিন ও কার্বসের মেলবন্ধনঃ প্রতিবেলার খাবারে অন্তত ৪০ শতাংশ প্রোটিন এবং ৫০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট রাখার চেষ্টা করবেন যা আপনার মাসল ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করবে। ভাত আলু এবং ডিমের এই সমন্বয় আপনার ১ মাসে মোটা হওয়ার উপায় হিসেবে সেরা কাজ করবে এবং আপনার শরীরকে ভরাট ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

রোগা থেকে মোটা হওয়ার উপায়

রোগা থেকে মোটা হওয়ার উপায় সম্পর্কে যারা জানতে আগ্রহী তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো নিজের ক্ষুধা বা রুচি বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া। অনেক সময় দেখা যায় বেশি খাবার সামনে থাকলেও রোগা মানুষেরা তা খেতে পারেন না কারণ তাদের হজম শক্তি দুর্বল থাকে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হলে প্রতিদিন সকালে সামান্য আদা এবং লেবুর জল পান করা যেতে পারে যা পাকস্থলীকে সতেজ করে এবং খাবারের রুচি বাড়ায়। রোগা শরীরকে বলিষ্ঠ করতে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে কারণ এটি একটি ধীরগতির কিন্তু স্থায়ী প্রক্রিয়া যা কেবল সঠিক পুষ্টির মাধ্যমেই সম্ভব।

এছাড়াও যারা খুব রোগা তাদের শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কম থাকতে পারে তাই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন পনির এবং টক দই নিয়মিত খাওয়া উচিত। রোগা থেকে মোটা হওয়ার উপায় মানে এই নয় যে আপনি কেবল চর্বি বাড়াবেন বরং আপনার হাড়ের ওপর শক্তিশালী পেশীর স্তর তৈরি করতে হবে। নিয়মিত রাতে ভালো ঘুমের পাশাপাশি দিনের বেলা ছোট ছোট কাজ করা যা আপনার পেশীকে সক্রিয় রাখে তা অত্যন্ত জরুরি। নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিয়মগুলো মেনে চলুন দেখবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার চেহারায় এক ধরণের লাবণ্য এবং পরিবর্তন ফুটে উঠবে যা আপনাকে খুশী করবে।

মোটা হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

মোটা হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে আপনার মেদ বাড়বে কিন্তু শরীরের স্ট্যামিনা বা শক্তি কমে যাবে। আপনার প্রতিদিনের খাবারের থালা যেন রঙিন শাকসবজি এবং মানসম্মত প্রোটিনে ভরপুর থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া এবং চিবিয়ে খাবার গ্রহণ করলে শরীর সেই খাবার থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি শোষণ করতে পারে। নিচে আপনার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশিকা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো যা আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ সবল হতে সাহায্য করবেঃ

সুষম খাবারের থালাঃ আপনার প্রতিবেলার খাবারে ভাতের পাশাপাশি ডাল সবজি এবং মাছ বা মাংসের একটি বড় অংশ থাকতে হবে যা সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করবে। এই ধরণের খাদ্যাভ্যাস আপনার রক্তে প্রয়োজনীয় পুষ্টির প্রবাহ বজায় রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করে ওজন বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

প্রাকৃতিক চর্বির ব্যবহারঃ রান্নায় পাম অয়েলের বদলে অলিভ অয়েল বা খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করা আপনার হৃদপিণ্ডের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর হবে। এছাড়া খাবারে বাড়তি স্বাদ যোগ করতে এক চামচ ঘি ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার হাড়ের জোড়াগুলোকে সচল রাখবে এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে মোটা হতে সাহায্য করবে।

মৌসুমি ফল ও সবজিঃ কেবল দামী ফল নয় বরং আপনার হাতের কাছে পাওয়া পেয়ারা আমড়া বা মিষ্টি কুমড়া থেকেও আপনি প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল পেতে পারেন। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো আপনার মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং আপনার রোগা শরীরকে দ্রুত সবল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যা আপনার দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেবে।

মোটা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব

মোটা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব নিয়ে যখন আমরা আলোচনা করি তখন বুঝতে হবে এটি আমাদের শরীরের প্রধান শক্তির উৎস বা জ্বালানি। আপনি যদি নিয়মিত ভারী ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন তবে আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট দাবি করবে। যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য শর্করা জাতীয় খাবার হলো সেরা বন্ধু কারণ এটি পেশীতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে এবং শরীরকে ভরাট দেখায়। কার্বোহাইড্রেট সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে আপনার শরীরের প্রোটিনগুলো শক্তির বদলে পেশী গঠনের কাজে ব্যয় হতে পারে যা ওজন বাড়ানোর জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

তবে মনে রাখবেন কার্বোহাইড্রেট মানেই কেবল মিষ্টি বা চিনি নয় বরং আপনাকে আস্ত শস্যদানা বা লাল চালের ভাতের মতো পুষ্টিকর উৎস বেছে নিতে হবে। আলু এবং ওটস হলো শর্করার অত্যন্ত ভালো উৎস যা আপনার হজম প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা তৈরি না করেই ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। মোটা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি আপনার হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও চনমনে রাখে। আপনার প্রতিটি খাবারের মেনুতে শর্করার সঠিক উপস্থিতি আপনার ওজনকে খুব দ্রুত একটি আদর্শ মানে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে ফিট থাকতে সাহায্য করবে।

মোটা হতে দিনে কতবার খাবার খাওয়া উচিত

মোটা হতে দিনে কতবার খাবার খাওয়া উচিত তা নির্ভর করে আপনার শরীরের হজম ক্ষমতার ওপর তবে সাধারণ নিয়ম হলো বিরতি দিয়ে বারবার খাবার গ্রহণ করা। আপনি যদি একবারে অনেক বেশি খাবার খান তবে আপনার পেট ভারী হয়ে যাবে এবং আপনি অলসতা অনুভব করবেন যা আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। কিন্তু আপনি যদি আপনার সারাদিনের খাবারকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেন তবে আপনার শরীর প্রতিবারই নতুন পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ পাবে। এটি আপনার মেটাবলিজমকে সচল রাখে এবং শরীরে বাড়তি চর্বি জমার বদলে পেশী গঠনে সাহায্য করে। নিচে আপনার প্রতিদিনের খাবারের সময়সূচী বা ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে কিছু বিশেষ পয়েন্ট বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ

১) বড় ৩টি প্রধান মিলঃ আপনার সকালের নাস্তা দুপুরের লাঞ্চ এবং রাতের ডিনার অবশ্যই পুষ্টিতে ভরপুর হতে হবে এবং কোনোভাবেই এগুলো বাদ দেওয়া যাবে না। প্রতিটি বড় মিলে অন্তত একটি প্রোটিন উৎস যেমন ডিম বা মাছ রাখা জরুরি যা আপনার পেশী পুনর্গঠনে দিনভর সহায়তা করবে এবং আপনার ওজন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

২) পুষ্টিকর স্ন্যাকস ব্রেকঃ প্রধান খাবারের মাঝখানে অন্তত দুবার হালকা কিন্তু উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত নাস্তা যেমন এক মুঠো বাদাম বা পিনাট বাটার টোস্ট খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই ছোট ছোট মিলগুলো আপনার শরীরের ক্যালোরির ঘাটতি হতে দেয় না এবং সারাক্ষণ আপনার কোষগুলোকে কর্মক্ষম রাখে যা দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি কৌশল।

৩) শোয়ার আগে প্রোটিন রিচার্জঃ রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস ঘন দুধ বা সামান্য পনির খাওয়ার চেষ্টা করুন যা ঘুমের সময় আপনার শরীরের মেরামতে সাহায্য করবে। দুধে থাকা ক্যাসিন প্রোটিন ধীরে ধীরে হজম হয় ফলে সারারাত আপনার শরীর পুষ্টির অভাবে ভোগে না এবং সকালে আপনি অনেক বেশি সতেজ ও শক্তিশালী অনুভব করবেন।

ওজন বাড়াতে সাহায্য করে এমন কিছু ব্যায়াম

ওজন বাড়াতে সাহায্য করে এমন কিছু ব্যায়াম আপনার রুটিনে যোগ করা মানে হলো আপনি কেবল মোটা হচ্ছেন না বরং আপনি নিজেকে শারীরিক ভাবে শক্তিশালী করে তুলছেন। ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায় যা পেশী দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অনেকেই ভুল মনে করেন যে ব্যায়াম করলে শরীর শুকিয়ে যায় কিন্তু সঠিক ওজন তোলার ট্রেনিং আপনার শরীরের হাড়ের গঠনকে মজবুত করে এবং আপনাকে একটি আকর্ষণীয় বডি শেপ দান করে। আপনি যদি নিয়মিত পুশ-আপস বা ভারী ডাম্বেল নিয়ে কাজ করেন তবে আপনার শরীরের চওড়া ভাব বাড়বে এবং আপনাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভরাট দেখাবে।

ব্যায়ামের ফলে আপনার খাবারের প্রতি রুচি অনেক গুণ বেড়ে যায় কারণ পরিশ্রমের পর আপনার শরীর পুষ্টির জন্য হাহাকার করে। এই সময় আপনি যা খাবেন তা আপনার শরীরে খুব দ্রুত শোষিত হবে এবং মেদ হিসেবে পেটে না জমে তা পেশী হিসেবে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা আপনার রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকেও সতেজ রাখে। আপনি যদি ঘরে বসেই ব্যায়াম করতে চান তবে স্কোয়াটস বা প্লাঙ্ক দিয়ে শুরু করতে পারেন যা আপনার শরীরের নিচের অংশ এবং কোর মাসল মজবুত করবে। মনে রাখবেন একটি সুগঠিত শরীরের জন্য খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই।

ওজন বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা

ওজন বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম কারণ আপনার শরীর গঠনের আসল কাজগুলো ঘুমের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। আপনি যখন সারাদিন পরিশ্রম করেন এবং পুষ্টিকর খাবার খান তখন আপনার শরীরে শক্তি সঞ্চিত হয় কিন্তু সেই শক্তিকে পেশীতে রূপান্তর করার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। ঘুমের অভাব আপনার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় যার ফলে আপনি প্রচুর খেয়েও কোনো ফলাফল পান না। আপনি যদি নিয়মিত রাত জাগেন তবে আপনার শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যাবে যা আপনার জমানো পেশী ক্ষয় করতে শুরু করবে। নিচে ঘুমের গুরুত্ব এবং এর নিয়মাবলী নিয়ে কিছু পয়েন্ট বিস্তারিত তুলে ধরা হলোঃ

১) ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুমঃ প্রতিদিন রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম আপনার শরীরের গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী। গভীর ঘুমের সময় আপনার শরীরের টিস্যুগুলো নতুন করে তৈরি হয় এবং আপনার মস্তিষ্ক শান্ত থাকে যা আপনার হজম ক্ষমতাকে উন্নত করে এবং আপনার ওজন বৃদ্ধির যাত্রাকে আরও দ্রুত ও স্থায়ী করে তোলে।
দ্রুত-মোটা-হওয়ার-সহজ-উপায়
২) দুপুরের পাওয়ার ন্যাপঃ সম্ভব হলে দুপুরে খাবারের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের একটি ছোট বিশ্রাম বা ঘুম নেওয়ার চেষ্টা করুন যা আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করবে। এই ছোট বিশ্রামটি আপনার মেটাবলিজমকে কিছুটা ধীর করে দেয় ফলে আপনার শরীরে বেশি ক্যালোরি জমা হওয়ার সুযোগ পায় যা আপনার রোগা শরীরকে ভরাট করতে জাদুর মতো কাজ করবে।

৩) মেলাটোনিন হরমোনের যত্নঃ ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো থেকে দূরে থাকুন যাতে আপনার শরীরে মেলাটোনিন হরমোন সঠিকভাবে নিঃসৃত হতে পারে। ভালো ঘুম হলে আপনার শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি পায় যা আপনার খাওয়া কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনকে সরাসরি পেশীতে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং আপনাকে সুস্থ সবল করে তোলে।

মোটা হওয়ার সময় জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলার কারণ

মোটা হওয়ার সময় জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলার কারণ হলো এগুলো আপনার ওজনকে অস্বাস্থ্যকর ভাবে বাড়িয়ে দেয় যা ভবিষ্যতে বড় ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বাজারের পিৎজা বার্গার বা চিপসগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বাজে চর্বি এবং লবণ থাকে যা আপনার লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনি হয়তো সাময়িকভাবে আয়নায় নিজেকে মোটা দেখবেন কিন্তু সেই মোটা হওয়া কেবল আপনার পেটের মেদ বাড়াবে এবং আপনার ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। আমরা ওজন বাড়াতে চাই একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জীবন পাওয়ার জন্য কিন্তু জাঙ্ক ফুড আপনাকে কেবল অলস এবং রোগাক্রান্ত করে তুলবে।

এছাড়া ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে আপনার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। এর বদলে আপনি যদি ঘরে তৈরি নাস্তা যেমন মুড়ি মাখা চিড়া দই বা ওটস খান তবে তা আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ সবল হতে সাহায্য করবে। বাইরের খাবারে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর রঙ ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা আপনার পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং খাবারের রুচি চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে। সবসময় মনে রাখবেন প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া খাবারই হলো আপনার শরীরের জন্য শ্রেষ্ঠ বন্ধু যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে ফিট এবং আকর্ষণীয় শরীরের অধিকারী করবে।

শেষ কথাঃ দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়। ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস

দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায় ও ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস নিয়ে আমাদের এই বিশাল আলোচনার মাধ্যমে আপনি নিশ্চয়ই ওজন বাড়ানোর একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ পেয়েছেন। ওজন বাড়ানো কোনো জাদুকরী বিষয় নয় বরং এটি আপনার প্রতিদিনের  ঘরোয়া খাদ্যাভ্যাস আপনার ব্যায়াম এবং আপনার পর্যাপ্ত বিশ্রামের একটি সম্মিলিত ফলাফল। আপনি যদি আজকের এই ১৫টি টিপস নিজের জীবনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারেন তবে আপনার রোগা শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তা করার দিন শেষ হবে।

মনে রাখবেন পরিবর্তন আনতে হলে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে কারণ কোনো ভালো কিছু রাতারাতি অর্জিত হয় না। দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায়। ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর ১৫টি টিপস মেনে চলুন এবং নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত হিসেবে গড়ে তুলুন। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং একটি ভরাট সুন্দর শরীরের জন্য আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা রইল। সর্বদা পুষ্টিকর খাবার খান এবং হাসিখুশি থাকুন কারণ আপনার হাসিই আপনার বড় শক্তি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যাডভান্স টিপস বিডি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url